Posts

বিবর্তনের নতুন প্যারাডাইম শিফট?

Image
◾প্রাককথন:             বিজ্ঞানের সুবিশাল আখ্যানে, হাতে গোণা কয়েকটি বিষয়ই বিবর্তন তত্ত্বের মতো জনসাধারণের মনে আলোড়ন তুলেছে। চার্লস ডারউইনের বিবর্তন কীভাবে হয় তা ব্যাখ্যাকারী প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব পৃথিবীতে জীবের বিবর্তন সম্পর্কে আমাদের চিন্তাজগতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। তথাপি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা যখন কোষের জটিল কার্যাবলীর গভীরে প্রবেশ করে, তখন একটি প্রশ্ন জাগে: নিও-ডারউইনীয় সিনথেসিস, যা বিগত শতাব্দী ধরে বিবর্তন তত্ত্বের উপর আধিপত্য বিস্তার করেছে, তা কি পুরো ব্যাপারটিকে সঠিকভাবে বর্ণনা করে?             বিজ্ঞানের কোনো তত্ত্বই পরম নয় , কালের আবর্তনে সকল তত্ত্বই পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত হয়। সকল বৈজ্ঞানিক তত্ত্বেই নতুন প্যারাডাইম আসতে বাধ্য, বিবর্তনও এর উর্ধ্বে নয়। বিজ্ঞানে প্যারাডাইম শিফট তখনই ঘটে যখন কোনো বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের তুলনায় আরও পরিমার্জিত বা উন্নত কোনো তত্ত্ব কিংবা ধারণার উদ্ভব হয় যা আগের তত্ত্বের চেয়ে ভালোভাবে ঐ ফেনোমেনাকে ব্যাখ্যা করে। এরকম নতুন কোনো তত্ত্বের উদ্ভব ঘটলে প্রমাণ সাপেক্ষে একে গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত হওয়া গুরুত্ব...

প্রকৃতিতে মাইক্রো-এভল্যুশন পর্যবেক্ষণ

Image
অনেকে বিবর্তন তত্ত্ব সম্পর্কে বলেন যে, সব প্রাণীই যদি বিবর্তনের মাধ্যমে উৎপত্তি হয়েই থাকে তবে এখন বিবর্তন হচ্ছে না কেন? এই ধরনের প্রশ্ন আসলে অবান্তর কারণ বিবর্তন একটি ধীরজ কিন্তু চলমান প্রক্রিয়া। একজন মানুষের পক্ষে তার জীবদ্দশায় শুধুমাত্র সেসকল প্রাণীরই বিবর্তন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব যাদের জীবনচক্র ক্ষুদ্র, যেমন বিজ্ঞানীরা ড্রোসোফিলা মাছির মধ্যে প্রজনন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিভিন্ন আনকোরা প্রজাতির সৃষ্টি করেছেন, করছেন। সম্প্রতি যে করোনা ভাইরাস ভ্যাক্সিনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল তার জন্যও দায়ী ডারউইনের মূল প্রতিপাদ্য ‘ প্রাকৃতিক নির্বাচন ’ যা বিবর্তন সংগঠিত হওয়ার অন্যতম প্রধান প্রক্রিয়া। এই ব্লগে প্রকৃতিতে চলমান বিবর্তনীয় প্রক্রিয়া চেরনোবিল অঞ্চলের Hyla orientalis প্রজাতির ব্যাঙের পপুলেশনে নির্দিষ্ট "ট্রেইট" ফিক্সেশনের ঘটনার মাধ্যমে ব্যাখ্যা  করা হবে। ১. চেরনোবিল । শব্দটা শুনলেই মনে পড়ে ১৯৮৬ সালের পৃথিবীর সবচে’ বড় পারমানবিক চুল্লির দুর্ঘটনার কথা। আজ থেকে প্রায় ৩৭ বছর আগে দুর্ঘটনাটি ঘটলেও এর চিহ্ন এখনো মুছে যায়নি। এখনো সেখানে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ বিদ্যমান। চেরনো...

পৃথিবীর গতি দুই নয় বরং তিন ধরণের

Image
একটা সমস্যা দিয়ে শুরু করি। খ্রিষ্টপূর্ব ১৩০ সালের দিকে গ্রিক গণিতবিদ এবং জ্যোতির্বিদ হিপ্পার্কাস একটা বিরল ঘটনা লক্ষ করেন। তিনি দেখেন যে স্পিকা নক্ষত্রের অবস্থান ১৫০ বছর আগে রেকর্ড করা নক্ষত্রের তালিকা থেকে ২° পূর্বে সরে গিয়েছে। পরে তিনি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে অন্যান্য নক্ষত্রের অবস্থানও পরিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। তিনি এই ঘটনার কারণ হিসেবে দায়ী করেন খ-গোলকের (খ-গোলক বা সেলেস্টিয়াল স্ফিয়ার হলো বিশাল এক কল্পিত গোলক যার কেন্দ্রে পৃথিবীর অবস্থান এবং যা তৎকালীন জিওসেন্ট্রিক মডেল এর কারনে সৃষ্ট। এই গোলকের মধ্যে বিভিন্ন গ্রহ, উপগ্রহ ও সূর্য পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরে। পৃথিবীকে কেন্দ্র করে সূর্য এই গোলকের যে পথে ঘোরে তাকে বলা হয় এক্লিপ্টিক । এই গোলকের পৃথিবীর মতোই রয়েছে সাউথ ও নর্থ পোল, ইকুয়েটর।) ঘুর্ণনকে। চিত্র: খ-গোলক বা Celestial Sphere. অতীতে জ্যোতিষ্কসমূহের অবস্থান এই কল্পত  গোলকের সাপেক্ষে নির্ণয় করা হতো।  যাহোক এই ঘটনার কারণের মধ্যেই নিহিত পৃথিবীর তৃতীয় গতি-ওয়াবল অব দি আর্থ। আমরা জানি, পৃথিবীর দুই ধরণের গত...

ইগলু যেভাবে এর ভেতরের পরিবেশকে উষ্ণ এবং আরামদায়ক রাখে

Image
◾শুরুর কথা: আদর্শলিপিতে বর্ণমালা শেখাতে 'I' দিয়ে শব্দ গঠনে প্রায়ই Igloo শব্দটি লেখা হয়। বলা যেতে পারে অনেকেই এই শব্দটির সাথে প্রথম এভাবেই পরিচিত হয়। বরফ দিয়ে তৈরি জিনিসের ভেতর উষ্ণ পরিবেশ কি করে থাকতে পারে? —এই প্রশ্ন বেশিরভাগ শিশুরই শৈশবের ক্লান্তির কারণ হতো। তবে ছোটবেলার এই প্রশ্নগুলো একসময় আর মনে থাকে না, হারিয়ে যায় কালের অতল গহ্বরে। আজ আমরা শৈশবের এই কৌতুহল জাগানিয়া প্রশ্নটির উত্তর খুঁজব। চিত্র: একটি ইগলু। ◾ইগলুর ভেতরের তাপমাত্রা: ইগলু বরফ দিয়ে তৈরি, তাই ইগলুর ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রার সমান হওয়া উচিত। ইগলুর ভেতরের তাপমাত্রা -7° থেকে 16° হতে পারে। আপনি এখন হয়তো মনে করবেন ইগলুর বাইরেও এই একই তাপমাত্রা থাকার কথা। কিন্তু না ইগলুর ভেতরে যদি -7 থেকে 16 °C হয় তাহলে বাইরের তাপমাত্রা হবে হয়তো -49 থেকে -55 °C। এজন্যই মূলত মানুষ ইগলুর ভিতরে বেঁচে থাকতে পারে। ◾ ইগলুর ভেতরে তাপমাত্রা বাইরের পরিবেশ থেকে এতো বেশি হয় কেন? এর কারণ ৩ টি— প্রথমত , বাতাসের বাতাসের আপেক্ষিক তাপ 1050 J/kgK । অর্থাৎ 1 কেজি বাতাসের তাপমাত্রা 1 kelvin বাড়াতে  1050 Joul তাপের প্রয়োজন। এখন কোন...

ডপেলগ্যাঙ্গার: যে কারণে দুই বা ততোধিক লোকের চেহারা একই মনে হয়

Image
২০১৭ সালের ঘটনাটা মনে আছে? ঐ যে মেসির মতো দেখতে রিজা পেরেস্তেস নামের সেই লোকটার কথা, যাকে অনেকেই মেসি ভেবে বসেছিলেন। এমনকি ইরানি এই লোকটার ছবিকে মেসির ছবি ভেবে একটা সংবাদমাধ্যম খবর পর্যন্ত প্রচার করেছে।  মনে না থাকলে মনে করিয়ে দিচ্ছি, কার্ডের বাম পাশের জন হলেন রিজা পেরেস্তেস এবং ডান পাশের জন হলেন মেসি। কিন্তু এতো এতো মানুষ রিজাকে মেসি ভেবে ভূল করলেন কেন? শেষ পর্যন্ত পড়লেই বুঝতে পারবেন। সিনারিও ১:  ধরুন, আপনি ফেসবুকে স্ক্রলিং করছেন, পরিচিত জনদের ছবি দেখছেন নিউজ ফিডে, কিন্তু আপনার মস্তিষ্ক কিভাবে বুঝলো এই চেহারা আপনি আগে দেখেছেন? সিনারিও ২: আবারও আপনি ফেসবুকে স্ক্রলিং করছেন, হঠাৎ দেখতে পেলেন আপনার মতো দেখতে হুবুহু একই চেহারার কোনো লোককে। হয়তো ভাববেন, "আরে দাদী-নানীরা তো ঠিকই কইছে, একই চেহারার অনেক মানুষ হয়!" যদিও আপনার ভাবনা কোনো বিজ্ঞানসম্মত উত্তর নয়, তবে কয়েকজন মানুষের চেহারা আমাদের কাছে হুবুহু একই মনে হতে পারে। এবং এর কারণ নিহিত রয়েছে, সিনারিও ১ এ উত্থাপিত প্রশ্নে! মানুষের চেহারা জিনিসটা কী? বলা যেতে পারে একটা নাক ও মুখ, দুইটা চোখ, গোলাপি কিংবা কালো ঠোঁট সম্বলিত " একটা ...

জেনেটিক্স: একটুখানি ইতিহাস ও পর্যালোচনা (পর্ব: ০১)

Image
◾প্রাক-কথন: জেনেটিক্স শব্দটি খুবই সাম্প্রতিক হলেও, এর রয়েছে মস্ত এক ইতিহাস। প্রাচীনকালে অনেক মনীষীগণ এই বিষয়ে তাদের মত দিয়েছেন। কিছুক্ষেত্রে এসব মতের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছিল, আবার কিছু ক্ষেত্রে ছিল না। জেনেটিক্স বুঝতে হলে এই ধারণাসমূহের সাথে পরিচিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। ◾প্রাচীনযুগে বংশগতিবিদ্যা: আমাদের পূর্বসূরীরা প্রকৃতি সম্পর্কে খুব একটা ভালো ধারণা রাখত না। বলা হয় যে তারা তখন জীব ও জড়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য করত না, সবকিছুকেই মনে করত জীবিত। বাতাস, গাছ এমনকি পাথড়কেও তারা জীবিত বলে মনে করত। তারা খেয়াল করেছিল যে কিছু জিনিস বংশবিস্তার করে। মানুষ, পাখি, বানরদের বংশবিস্তার করা দেখে তারা মনে করত জড় পদার্থও বংশবিস্তার করে, তারা ভাবত বড় বড় পাথড় বংশবৃদ্ধি করে ছোট ছোট নুড়়িপাথড়ের জন্ম দেয়! তবে অনেক ইতিহাসবিদের মতে, এই সহজ সরল মানুষগুলো জানতই না যে বংশবৃদ্ধির সাথে নারী-পুরুষ মিলনের সম্পর্ক আছে। গর্ভ হওয়া আর সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার নয় মাসের ব্যবধানের জন্যই তারা বিষয়টা জানত না। তবে এই তত্ত্ব আমাদের কিছুটা সংশয় ফেলে, পুরুষরা নাহয় মিলনের সাথে বংশবৃদ্ধির সম্পর্ক খেয়াল করেনি কিন্তু নারীর দেহে যে ...

ব্রাজিল নাট ইফেক্ট

Image
কখনও লক্ষ্য করেছেন যে, চিপসের প্যাকেটে কেন বড় আকারের গুলো সবসময় উপরে এবং ছোট আকারের গুলো সবসময় নিচে থাকে? কিংবা চানাচুরের প্যাকেটে কেন বাদামগুলো সবসময় উপরে থাকে? কখনো ভেবে দেখেছেন বালির সাথে নুড়িপাথর মিশিয়ে ঝাকালে কেন নুড়িপাথর উপরে এবং বালির ছোট কণাগুলো নিচে চলে যায়? দৈনন্দিন জীবনে প্রায়ই সংগঠিত হওয়া এই ঘটনাটিকে সাধারণত " ব্রাজিল নাট ইফেক্ট " বলা হয়। বিভিন্ন ধরণের বাদামের আকৃতি ভিন্ন। কিছু ছোট আকারের চিনা বাদাম আর কিছু ব্রাজিল নাট একসাথে মিশিয়ে ঝাকালে দেখা যায় ব্রাজিল নাটগুলো উপরে উঠে আসে। এই ঘটনার মাধ্যমে ইফেক্টটি সর্বপ্রথম কারো নজরে আসে বলেই হয়তো ইফেক্টটির এই নামকরণ করা হয়েছে। ব্রাজিল নাট ইফেক্টের পেছনের বিজ্ঞান বেশ জটিল এবং বিভিন্ন পদার্থবিদ্যার বিভিন্ন নীতির উপর নির্ভরশীল। চিত্র ১: ব্রাজিল নাট। ◾প্রাককথন: আমরা পদার্থের তিনটি অবস্থার সাথে পরিচিত: কঠিন, তরল এবং গ্যাসীয় । আমরা জানি যে পাথর কঠিন, সমুদ্রের পানি তরল এবং আমরা যে বায়ু শ্বাস হিসেবে গ্রহণ করি তা হল গ্যাস। কিন্তু কিছু পদার্থের আচরণের ক্ষেত্রে শ্রেণীবিভাগ সবসময় সবকিছুকে ধারণ করতে পারে না। আপনি বা...

একাগ্রচিত্তে কাজ করার সময় অনেকে অবচেতনে মনেই জিহ্বা বের করে রাখে কেন?

Image
◾শুরুর কথা: আপনি মাঝেমধ্যে দেখে থাকবেন যে কিছু মানুষ কোনো কাজ মনোযোগ দিয়ে করার সময় জিহ্বা বের করে উপরের ঠোঁটের সাথে লাগিয়ে রাখে। তারা জানেও না যে জিহ্বা ঠোঁটের সাথে লেগে রয়েছে। হয়তো আপনার ক্ষেত্রেও এই ঘটনা ঘটেছে। তবে, এই বিষয়টা বেশি দেখা যায় শিশুদের বেলায়। কোনো কিছু লেখার সময় প্রায়ই তাদের জিহ্বা ঠোঁটের সাথে লেগে থাকে। আপনি হয়তো এ নিয়ে আর মাথা ঘামাননি। ঘটনাটি খুব সাধারণ মনে হলেও এটা ঘটার কারণ অত্যন্ত জটিল। প্রিয় পাঠক, চলুন খুঁজে বের করি এই ঘটনার প্রকৃত কারণ। ◾মোটর ওভারফ্লো: আমরা কোনো কাজ করার সময় মনের অগোচরে কেন জিহ্বা বের করি এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয় মোটর ওভারফ্লো তত্ত্বের মাধ্যমে। ফ্রন্টিয়ার্স ইন সাইকোলজিতে প্রকাশিত 2019 সালের একটি সমীক্ষা [ ১ ] অনুসারে মস্তিষ্কের ভাষা নিয়ন্ত্রণকারী অঞ্চল (লোয়ার ফ্রন্টাল গাইরাসে অবস্থিত) মোটর দক্ষতা (হাত পা নাড়ানোর তথা পেশি সঞ্চালনের ক্ষমতা) এবং যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জাম ব্যবহারের জন্য নিবেদিত নিউরাল নেটওয়ার্কগুলির সাথে ওভারল্যাপ করেছে । মোটর ওভারফ্লো তত্ত্বানুসারে, মস্তিষ্কের যে অঞ্চল সরঞ্জাম ব্যবহার এবং দক্ষতার জন্য দায়ী সেই অঞ্চলের নিউরনগুলি এতটাই স...

বাতাসের চাপ সমাচার

Image
  ◾শুরুর কথা: প্রাচীনকালে বাতাসকে বস্তু মনে করা হতো না। গ্রীক যুগে দার্শনিক এম্পেডোক্লিস (৪৯০-৪৩০ খ্রি:পূর্ব) পানিতে একটি বালতি উল্টো করে রেখেছিলেন এবং বুঝতে পেরেছিলেন যে পানি ভিতরে প্রবেশ করতে পারছে না, এইভাবে বাতাসকে একটি "বস্তু" হিসাবে তিনি চিহ্নিত করতে সমর্থ হন যা বালতিটি পূরণ করছে। কিন্তু তিনি যখন পানিপূর্ণ বালতিকে ওঠাবার চেষ্টা করেন তখন দেখতে পান বালতিটি ওপরে উঠাতে বেশি বল প্রয়োগ করতে হচ্ছে। কিন্তু কেন এমন হচ্ছে সেটার কোনো কূলকিনারা করতে ব্যর্থ হন তিনি। সমস্যা নেই এ বিষয়ে একটু পরেই বলব। যাহোক, কাল এগিয়ে চলল, নতুন নতুন দার্শনিকদের জন্ম হলো, সবাই সমস্যাটার সমাধানে মনোযোগী হলেন তবে কেউই সঠিক কিছু বলতে পারলেন না। এরিস্টটল বাতাসকে উষ্ণ এবং আর্দ্র বলে বর্ণনা করেছেন। প্লেটো মনে করতেন, বিভিন্ন ধরনের বাতাস আছে, সবচেয়ে উজ্জ্বল হল Aether যা মেঘের কাছাকাছি থাকে এবং সবচেয়ে নিচে মাটির কাছে থাকে Aer যা কিনা কুয়াশাচ্ছন্ন। ◾পট পরিবর্তনের সূচনা: এরই মাঝে রেনেসাঁস এসে পরলো। দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী ধরে ইউরোপে জ্ঞান চর্চার সূর্য স্তিমিত থাকার পর অবশেষে সেই অন্ধকার কাটতে শুরু করল। জিওর্দানো ...

আবিষ্কৃত হয়েছে মোটা লবণের দানার আকৃতির (০.৫ মি.মি.) মাইক্রোস্কোপিক ক্যামেরা যা কিনা এর আকৃতির ৫ লাখ গুণ বড় লেন্সের সমান রেজুলেশনের রঙিন ছবি তুলতে সক্ষম!

Image
প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অফ ওয়াশিংটনের গবেষকরা, মোটা লবণের দানার আকারের একটি ক্যামেরা তৈরি করেছেন। মাত্র আধা মিলিমিটার চওড়া এই ক্যামেরাটি পরিষ্কার, রঙিন ছবি তুলতে সক্ষম। গবেষকরা এ নিয়ে কয়েক মাস আগে নেচার কমিউনিকেশনে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন । ◾ক্যামেরাটির গঠন এবং কার্যপদ্ধতি:   মাইক্রোস্কোপিক ক্যামেরাটি মোটা লবণের দানার আকারের তৈরি করা হয়েছে যা 500,000 গুণ বড় লেন্সের সমান রেজ্যুলিউশনের রঙিন ছবি তৈরি করতে পারে!এটা সিলিকনের একটি যৌগ দ্বারা তৈরি যা অনেকটা সাধারণ কাচের মতোই। এটাতে ১.৬ মিলিয়ন ক্ষুদ্র, নলাকার পোস্ট বা কলাম দ্বারা আচ্ছাদিত একটি 'মেটাসারফেস' রয়েছে। এই আলোক গ্রহণকারী  পৃষ্ঠটির আকৃতি অনেকটা অ্যান্টেনার মতো। AI ভিত্তিক মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম আলোর সাথে প্রতিটি নলাকার ‘পোস্ট' বা কলামগুলোর মিথস্ক্রিয়াকে একটি ছবিতে রূপান্তর করে। অর্থাৎ কনভেনশনাল ক্যামেরার মতো এই ক্যামেরায় লেন্সের মাধ্যমে আলোকে ফোকাস করা লাগে না। ◾ব্যবহার: ক্যামেরাটি বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। ভবিষ্যতে হয়তো এই ক্যামেরা  লেন্স ভিত্তিক ক্যামেরাকে সরিয়ে জায়গা নিয়...

অর্ধেক মস্তিষ্ক নিয়ে বেঁচে থাকা সম্ভব?

Image
◾শুরুর কথা: মস্তিষ্ককে বলা হয় মহাবিশ্বের সবচে' জটিল কাঠামো। আমাদের মস্তিষ্কে প্রায় ৮৬ বিলিয়ন নিউরন রয়েছে মানে ৮৬০০ কোটি নিউরন। তুলনা করতে গেলে বলা যায়, পুরো মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিতে যে কটা তারা রয়েছে তার প্রায় অর্ধেক সংখ্যক নিউরন রয়েছে আমাদের মস্তিষ্কে। এই নিউরনগুলো আবার প্রত্যেকে আলাদাভাবে ১০০০০ টা অন্য নিউরনের সাথে যুক্ত হয়ে জটিল থেকেও জটিলতম কাঠামো গঠন করেছে। নিউরনের এই একে অপরের সাথে যে কানেকশন রয়েছে তা জন্মের পরে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হতে থাকে, এক কথায় ব্রেন প্রতিনিয়ত 'রি-ওয়্যার্ড' হতে থাকে। একটা উদাহরণ দিলে বিষয়টা বুঝতে সুবিধা হবে, ধরুন আপনি কিছু দিন ধরে একটা গাণিতিক সমস্যা নিয়ে ভাবছেন, কোনো কূলকিনারা করতে পারছেন না। একদিন হঠাৎ সমস্যার সমাধান করে ফেললেন। কীভাবে করলেন? আসলে এতোদিন সমস্যাটা নিয়ে ভাবতে গিয়ে আপনার মস্তিষ্কের নিউরাল কানেকশন চেন্ঞ্জ হয়ে গিয়েছে, ব্রেনের সমস্যা সমাধানে জড়িত অংশের নিউরনগুলো আরো বেশিসংখ্যক নিউরনের সাথে সংযোগ তৈরি করেছে, ফলে আপনি সমস্যার সমাধান পেয়ে গেছেন। আমাদের মস্তিষ্ক আসলে অত্যন্ত নমনীয়, যেকোনোক্ষেত্রেই এটা নিজের নিউরাল নেটওয়ার্ক পুনঃবিন্যস...

সাবধান! AI অ্যালগরিদম ব্যবহার করে কি-বোর্ডের বোতাম চাপার শব্দ ব্যবহার করেই পাসওয়ার্ড জেনে নেয়া সম্ভব!

Image
কি-বোর্ডে বোতাম চাপার শব্দ রেকর্ড করে পাসওয়ার্ড হ্যাক করা নতুন কিছু নয়, তবে AI অ্যালগরিদম ব্যবহার করে গবেষকরা অনেক বেশি নির্ভুলতার সাথে এটি করতে সমর্থ হয়েছেন। সম্প্রতি ডারহাম ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অফ সারে এবং লন্ডনের রয়্যাল হলওয়ে ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞানীরা একটি এআই মডেল, "সাইবার অ্যাটাক" তৈরি করেছেন যেখানে একটি ডিপ লার্নিং মডেল, ZOOM এবং স্মার্টফোনের মাইক্রোফোন থেকে অডিও রেকর্ডিং ব্যবহার করে কিস্ট্রোক শ্রেণীবদ্ধ করেছে। যখন জুম ব্যবহার করে কীস্ট্রোকের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, গবেষকরা ৯৩ শতাংশ নির্ভুলতা অর্জন করেন এবং একটি স্মার্টফোন ব্যবহার করে তারা ৯৫ শতাংশ নির্ভুলতা অর্জন করেন। অফ-দ্য-শেল্ফ ইক্যুইপমেন্ট এবং সফ্টওয়্যার ব্যবহার করে, তারা এই ধরনের আক্রমণ কীভাবে সম্ভব তা দেখাতে সক্ষম হয়েছিলেন।  অ্যাকোস্টিক সাইড চ্যানেল অ্যাটাক (ASCA) নামে পরিচিত এই ধরনের সাইবার অ্যাটাক নিয়ে  ২০০০ সালের এর দশকের গোড়ার দিকে গবেষণা শুরু হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে খুব একটা ফোকাস পায়নি। যাইহোক, এখন ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের উত্থানের কারণে, লোকেরা ক্যাফে এবং পাবলিক প্লেসে দূরবর্তীভাবে...

নভোচারীদের তেজস্ক্রিয় বিকিরণ থেকে রক্ষা করতে সক্ষম রেডিওট্রফিক ছত্রাক

Image
 স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং নর্থ ক্যারোলিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি দল  তেজস্ক্রিয় বিকিরণ থেকে মহাকাশচারীদের রক্ষা করার জন্য পরিত্যক্ত চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাইটটিতে এবং আরো কিছু ধ্বংসপ্রাপ্ত নিউক্লিয়ার রিয়েক্টরে ক্রমবর্ধমান ছত্রাক ( Radiotrophic fungus নামে অধিক পরিচিত) ব্যবহার করার কার্যকারিতা পরীক্ষা করেছে। NASA -এর কর্মকর্তারা মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠাতে খুবই তৎপর কিন্তু  তাদের ইচ্ছাকে বাস্তবায়িত করার আগে অনেক প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে হবে— সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো তেজস্ক্রিয় বিকিরণ থেকে মহাকাশচারীদের রক্ষা করা। পৃথিবীর প্রতিরক্ষামূলক বায়ুমণ্ডল এবং চৌম্বক ক্ষেত্র ছাড়া মানুষ মহাকাশে, চাঁদে বা মঙ্গলে খুব বেশি দিন বাঁচবে না। তাই বিজ্ঞানীরা মহাকাশচারীদের রক্ষা করার জন্য কার্যকর উপায় খুঁজছেন। এই নতুন প্রচেষ্টায়, গবেষকরা দেখিয়েছেন যে কিছু ধরণের ছত্রাক রাশিয়ার চেরনোবিল অঞ্চলে ধ্বংস হওয়া পারমাণবিক চুল্লীর ভেতরে উচ্চ তেজস্ক্রিয়তাপূর্ণ স্থানে বংশ-বিস্তার করতে সক্ষম [প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯৯১ সালে]। পরীক্ষায় দেখা গেছে যে এগুলো ক...

বিজ্ঞান ও প্রকৃতিবাদী দর্শন নিয়ে রেফারেন্স ভিত্তিক ব্লগ প্রকাশের মাধ্যমে এ বিষয়ে সকলকে প্রকৃত তথ্য জানানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।

Image
  বিজ্ঞান ও প্রকৃতিবাদী দর্শন নিয়ে রেফারেন্স ভিত্তিক ব্লগ প্রকাশের মাধ্যমে এ বিষয়ে সকলকে প্রকৃত তথ্য জানানোই আমাদের মূল লক্ষ্য।