Posts

হোমিওপ্যাথি: বিজ্ঞান নাকি ছদ্মবিজ্ঞান?

Image
◽প্রাক-কথন: হোমিওপ্যাথি, ১৮ শতকের শেষের দিকে উদ্ভুত একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। এর প্রবক্তাগণ সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে টিউমার-ক্যান্সার এর চিকিৎসায়ও এর কার্যকারিতা সম্পর্কে নিঃসন্দেহ। যাইহোক, বিজ্ঞানী মহল হোমিওপ্যাথিকে মূলত ছদ্মবিজ্ঞান হিসাবে চিহ্নিত করে। হোমিওপ্যাথির কার্যপদ্ধতি আধুনিক বিজ্ঞানের মূলনীতি সমূহের সাথে সাংঘর্ষিক এবং একেবারে অযৌক্তিক। এই প্রবন্ধে আমরা কেন হোমিওপ্যাথি বিজ্ঞান নয় তার কারণগুলো ব্যাখ্যা করবো, বিশেষ করে কার্ল পপারের " সায়েন্স-সিউডোসায়েন্স ডিমার্কেশন " মানদণ্ডের মাধ্যমে। একইসাথে আমরা হোমিওপ্যাথির ইতিহাস ও এর মূল নীতিগুলোর চুল চেড়া বিশ্লেষণের মাধ্যমে এগুলো কেন আধুনিক চিকিৎসা-বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক তা ব্যাখ্যা করব এবং হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সেবনে আপাত-আরোগ্যের ক্ষেত্রে প্লাসিবো এফেক্টের ভূমিকা কতটুকু তা জানাবো। ◽হোমিওপ্যাথির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস: হোমিওপ্যাথির প্রবর্তক হলেন স্যামুয়েল হ্যানিম্যান ( ১৭৫৫-১৮৪৩ )। হ্যানিম্যানের সময়ে চিকিৎসা পদ্ধতি বর্তমান কালের মতো উন্নত ছিল না। তখনকার চিকিৎসকেরা অনেক সময়ই আরোগ্যের জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে রোগীর রক্তপাত ঘটাতেন, মন...

স্লিঙ্কি: মহাকর্ষকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শূন্যে ভেসে থাকে যে খেলনা

Image
◾প্রাক-কথন: ছোট বাচ্চা হোক আর বুড়ো পদার্থবিদ, স্লিঙ্কি সবার কাছেই বেশ জনপ্রিয় একটি খেলনা। স্লিঙ্কি ঝাঁকিয়ে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ তৈরি করা বাচ্চাদের বেশ পছন্দের। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি  পদার্থবিদরাও স্লিঙ্কি নিয়ে বেশ উৎসাহী। স্লিঙ্কি মূলত কয়েক সে.মি. থেকে মিটার অব্দি লম্বা একধরণের স্প্রিং। ১৯৪০ সালের দিকে রিচার্ড জেমস প্রথম স্লিঙ্কি উদ্ভাবন করেন। স্টিলের পাতকে কয়েল আকারে পেঁচিয়ে টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে স্লিঙ্কি তৈরি করা হয়। মজার ব্যাপার হলো, একটি স্লিঙ্কিকে যদি এক প্রান্তে ধরে এটিকে উল্লম্বভাবে ঝুলিয়ে  ছেড়ে দেওয়া হয়, তখন এটি কিছুক্ষণের জন্য শূন্যে ভেসে থাকে! মশকরা করছি নাকি সত্যি বলছি সেটা এই ভিডিওটা দেখলেই বুঝতে পারবেন: ভিডিও: স্লিঙ্কির শুন্যে ভেসে থাকা! আপনার মনে নিশ্চয়ই প্রশ্ন জাগছে, স্লিঙ্কি কীভাবে মহাকর্ষ বলকে উপেক্ষা করে শূন্যে ভেসে রইলো? এই পোস্টে আমরা এই প্রশ্নেরই বিস্তারিত উত্তর খুঁজবো।  স্লিঙ্কি কেন শূন্যে ভেসে থাকে?:  একটা স্লিঙ্কিকে যখন এক প্রান্ত ধরে উল্লম্বভাবে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় তখন এটা তার নিজস্ব ওজনের ( F=mg ) কারনে নিচের দিকে প্রসারিত হয়, প্রতিটি কয়েল বা পাক ...

বিবর্তনের নতুন প্যারাডাইম শিফট?

Image
◾প্রাককথন:             বিজ্ঞানের সুবিশাল আখ্যানে, হাতে গোণা কয়েকটি বিষয়ই বিবর্তন তত্ত্বের মতো জনসাধারণের মনে আলোড়ন তুলেছে। চার্লস ডারউইনের বিবর্তন কীভাবে হয় তা ব্যাখ্যাকারী প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব পৃথিবীতে জীবের বিবর্তন সম্পর্কে আমাদের চিন্তাজগতে বিপ্লব ঘটিয়েছে। তথাপি, বৈজ্ঞানিক গবেষণা যখন কোষের জটিল কার্যাবলীর গভীরে প্রবেশ করে, তখন একটি প্রশ্ন জাগে: নিও-ডারউইনীয় সিনথেসিস, যা বিগত শতাব্দী ধরে বিবর্তন তত্ত্বের উপর আধিপত্য বিস্তার করেছে, তা কি পুরো ব্যাপারটিকে সঠিকভাবে বর্ণনা করে?             বিজ্ঞানের কোনো তত্ত্বই পরম নয় , কালের আবর্তনে সকল তত্ত্বই পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত হয়। সকল বৈজ্ঞানিক তত্ত্বেই নতুন প্যারাডাইম আসতে বাধ্য, বিবর্তনও এর উর্ধ্বে নয়। বিজ্ঞানে প্যারাডাইম শিফট তখনই ঘটে যখন কোনো বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের তুলনায় আরও পরিমার্জিত বা উন্নত কোনো তত্ত্ব কিংবা ধারণার উদ্ভব হয় যা আগের তত্ত্বের চেয়ে ভালোভাবে ঐ ফেনোমেনাকে ব্যাখ্যা করে। এরকম নতুন কোনো তত্ত্বের উদ্ভব ঘটলে প্রমাণ সাপেক্ষে একে গ্রহণ করার জন্য প্রস্তুত হওয়া গুরুত্ব...

প্রকৃতিতে মাইক্রো-এভল্যুশন পর্যবেক্ষণ

Image
অনেকে বিবর্তন তত্ত্ব সম্পর্কে বলেন যে, সব প্রাণীই যদি বিবর্তনের মাধ্যমে উৎপত্তি হয়েই থাকে তবে এখন বিবর্তন হচ্ছে না কেন? এই ধরনের প্রশ্ন আসলে অবান্তর কারণ বিবর্তন একটি ধীরজ কিন্তু চলমান প্রক্রিয়া। একজন মানুষের পক্ষে তার জীবদ্দশায় শুধুমাত্র সেসকল প্রাণীরই বিবর্তন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব যাদের জীবনচক্র ক্ষুদ্র, যেমন বিজ্ঞানীরা ড্রোসোফিলা মাছির মধ্যে প্রজনন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিভিন্ন আনকোরা প্রজাতির সৃষ্টি করেছেন, করছেন। সম্প্রতি যে করোনা ভাইরাস ভ্যাক্সিনের বিরুদ্ধে শক্তিশালী হয়ে উঠেছিল তার জন্যও দায়ী ডারউইনের মূল প্রতিপাদ্য ‘ প্রাকৃতিক নির্বাচন ’ যা বিবর্তন সংগঠিত হওয়ার অন্যতম প্রধান প্রক্রিয়া। এই ব্লগে প্রকৃতিতে চলমান বিবর্তনীয় প্রক্রিয়া চেরনোবিল অঞ্চলের Hyla orientalis প্রজাতির ব্যাঙের পপুলেশনে নির্দিষ্ট "ট্রেইট" ফিক্সেশনের ঘটনার মাধ্যমে ব্যাখ্যা  করা হবে। ১. চেরনোবিল । শব্দটা শুনলেই মনে পড়ে ১৯৮৬ সালের পৃথিবীর সবচে’ বড় পারমানবিক চুল্লির দুর্ঘটনার কথা। আজ থেকে প্রায় ৩৭ বছর আগে দুর্ঘটনাটি ঘটলেও এর চিহ্ন এখনো মুছে যায়নি। এখনো সেখানে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ বিদ্যমান। চেরনো...

পৃথিবীর গতি দুই নয় বরং তিন ধরণের

Image
একটা সমস্যা দিয়ে শুরু করি। খ্রিষ্টপূর্ব ১৩০ সালের দিকে গ্রিক গণিতবিদ এবং জ্যোতির্বিদ হিপ্পার্কাস একটা বিরল ঘটনা লক্ষ করেন। তিনি দেখেন যে স্পিকা নক্ষত্রের অবস্থান ১৫০ বছর আগে রেকর্ড করা নক্ষত্রের তালিকা থেকে ২° পূর্বে সরে গিয়েছে। পরে তিনি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বুঝতে পারেন যে অন্যান্য নক্ষত্রের অবস্থানও পরিবর্তিত হয়েছে। কিন্তু কেন? এই প্রশ্নের সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি। তিনি এই ঘটনার কারণ হিসেবে দায়ী করেন খ-গোলকের (খ-গোলক বা সেলেস্টিয়াল স্ফিয়ার হলো বিশাল এক কল্পিত গোলক যার কেন্দ্রে পৃথিবীর অবস্থান এবং যা তৎকালীন জিওসেন্ট্রিক মডেল এর কারনে সৃষ্ট। এই গোলকের মধ্যে বিভিন্ন গ্রহ, উপগ্রহ ও সূর্য পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরে। পৃথিবীকে কেন্দ্র করে সূর্য এই গোলকের যে পথে ঘোরে তাকে বলা হয় এক্লিপ্টিক । এই গোলকের পৃথিবীর মতোই রয়েছে সাউথ ও নর্থ পোল, ইকুয়েটর।) ঘুর্ণনকে। চিত্র: খ-গোলক বা Celestial Sphere. অতীতে জ্যোতিষ্কসমূহের অবস্থান এই কল্পত  গোলকের সাপেক্ষে নির্ণয় করা হতো।  যাহোক এই ঘটনার কারণের মধ্যেই নিহিত পৃথিবীর তৃতীয় গতি-ওয়াবল অব দি আর্থ। আমরা জানি, পৃথিবীর দুই ধরণের গত...

ইগলু যেভাবে এর ভেতরের পরিবেশকে উষ্ণ এবং আরামদায়ক রাখে

Image
◾শুরুর কথা: আদর্শলিপিতে বর্ণমালা শেখাতে 'I' দিয়ে শব্দ গঠনে প্রায়ই Igloo শব্দটি লেখা হয়। বলা যেতে পারে অনেকেই এই শব্দটির সাথে প্রথম এভাবেই পরিচিত হয়। বরফ দিয়ে তৈরি জিনিসের ভেতর উষ্ণ পরিবেশ কি করে থাকতে পারে? —এই প্রশ্ন বেশিরভাগ শিশুরই শৈশবের ক্লান্তির কারণ হতো। তবে ছোটবেলার এই প্রশ্নগুলো একসময় আর মনে থাকে না, হারিয়ে যায় কালের অতল গহ্বরে। আজ আমরা শৈশবের এই কৌতুহল জাগানিয়া প্রশ্নটির উত্তর খুঁজব। চিত্র: একটি ইগলু। ◾ইগলুর ভেতরের তাপমাত্রা: ইগলু বরফ দিয়ে তৈরি, তাই ইগলুর ভেতরের তাপমাত্রা বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রার সমান হওয়া উচিত। ইগলুর ভেতরের তাপমাত্রা -7° থেকে 16° হতে পারে। আপনি এখন হয়তো মনে করবেন ইগলুর বাইরেও এই একই তাপমাত্রা থাকার কথা। কিন্তু না ইগলুর ভেতরে যদি -7 থেকে 16 °C হয় তাহলে বাইরের তাপমাত্রা হবে হয়তো -49 থেকে -55 °C। এজন্যই মূলত মানুষ ইগলুর ভিতরে বেঁচে থাকতে পারে। ◾ ইগলুর ভেতরে তাপমাত্রা বাইরের পরিবেশ থেকে এতো বেশি হয় কেন? এর কারণ ৩ টি— প্রথমত , বাতাসের বাতাসের আপেক্ষিক তাপ 1050 J/kgK । অর্থাৎ 1 কেজি বাতাসের তাপমাত্রা 1 kelvin বাড়াতে  1050 Joul তাপের প্রয়োজন। এখন কোন...

ডপেলগ্যাঙ্গার: যে কারণে দুই বা ততোধিক লোকের চেহারা একই মনে হয়

Image
২০১৭ সালের ঘটনাটা মনে আছে? ঐ যে মেসির মতো দেখতে রিজা পেরেস্তেস নামের সেই লোকটার কথা, যাকে অনেকেই মেসি ভেবে বসেছিলেন। এমনকি ইরানি এই লোকটার ছবিকে মেসির ছবি ভেবে একটা সংবাদমাধ্যম খবর পর্যন্ত প্রচার করেছে।  মনে না থাকলে মনে করিয়ে দিচ্ছি, কার্ডের বাম পাশের জন হলেন রিজা পেরেস্তেস এবং ডান পাশের জন হলেন মেসি। কিন্তু এতো এতো মানুষ রিজাকে মেসি ভেবে ভূল করলেন কেন? শেষ পর্যন্ত পড়লেই বুঝতে পারবেন। সিনারিও ১:  ধরুন, আপনি ফেসবুকে স্ক্রলিং করছেন, পরিচিত জনদের ছবি দেখছেন নিউজ ফিডে, কিন্তু আপনার মস্তিষ্ক কিভাবে বুঝলো এই চেহারা আপনি আগে দেখেছেন? সিনারিও ২: আবারও আপনি ফেসবুকে স্ক্রলিং করছেন, হঠাৎ দেখতে পেলেন আপনার মতো দেখতে হুবুহু একই চেহারার কোনো লোককে। হয়তো ভাববেন, "আরে দাদী-নানীরা তো ঠিকই কইছে, একই চেহারার অনেক মানুষ হয়!" যদিও আপনার ভাবনা কোনো বিজ্ঞানসম্মত উত্তর নয়, তবে কয়েকজন মানুষের চেহারা আমাদের কাছে হুবুহু একই মনে হতে পারে। এবং এর কারণ নিহিত রয়েছে, সিনারিও ১ এ উত্থাপিত প্রশ্নে! মানুষের চেহারা জিনিসটা কী? বলা যেতে পারে একটা নাক ও মুখ, দুইটা চোখ, গোলাপি কিংবা কালো ঠোঁট সম্বলিত " একটা ...

জেনেটিক্স: একটুখানি ইতিহাস ও পর্যালোচনা (পর্ব: ০১)

Image
◾প্রাক-কথন: জেনেটিক্স শব্দটি খুবই সাম্প্রতিক হলেও, এর রয়েছে মস্ত এক ইতিহাস। প্রাচীনকালে অনেক মনীষীগণ এই বিষয়ে তাদের মত দিয়েছেন। কিছুক্ষেত্রে এসব মতের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি ছিল, আবার কিছু ক্ষেত্রে ছিল না। জেনেটিক্স বুঝতে হলে এই ধারণাসমূহের সাথে পরিচিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। ◾প্রাচীনযুগে বংশগতিবিদ্যা: আমাদের পূর্বসূরীরা প্রকৃতি সম্পর্কে খুব একটা ভালো ধারণা রাখত না। বলা হয় যে তারা তখন জীব ও জড়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য করত না, সবকিছুকেই মনে করত জীবিত। বাতাস, গাছ এমনকি পাথড়কেও তারা জীবিত বলে মনে করত। তারা খেয়াল করেছিল যে কিছু জিনিস বংশবিস্তার করে। মানুষ, পাখি, বানরদের বংশবিস্তার করা দেখে তারা মনে করত জড় পদার্থও বংশবিস্তার করে, তারা ভাবত বড় বড় পাথড় বংশবৃদ্ধি করে ছোট ছোট নুড়়িপাথড়ের জন্ম দেয়! তবে অনেক ইতিহাসবিদের মতে, এই সহজ সরল মানুষগুলো জানতই না যে বংশবৃদ্ধির সাথে নারী-পুরুষ মিলনের সম্পর্ক আছে। গর্ভ হওয়া আর সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার নয় মাসের ব্যবধানের জন্যই তারা বিষয়টা জানত না। তবে এই তত্ত্ব আমাদের কিছুটা সংশয় ফেলে, পুরুষরা নাহয় মিলনের সাথে বংশবৃদ্ধির সম্পর্ক খেয়াল করেনি কিন্তু নারীর দেহে যে ...

ব্রাজিল নাট ইফেক্ট

Image
কখনও লক্ষ্য করেছেন যে, চিপসের প্যাকেটে কেন বড় আকারের গুলো সবসময় উপরে এবং ছোট আকারের গুলো সবসময় নিচে থাকে? কিংবা চানাচুরের প্যাকেটে কেন বাদামগুলো সবসময় উপরে থাকে? কখনো ভেবে দেখেছেন বালির সাথে নুড়িপাথর মিশিয়ে ঝাকালে কেন নুড়িপাথর উপরে এবং বালির ছোট কণাগুলো নিচে চলে যায়? দৈনন্দিন জীবনে প্রায়ই সংগঠিত হওয়া এই ঘটনাটিকে সাধারণত " ব্রাজিল নাট ইফেক্ট " বলা হয়। বিভিন্ন ধরণের বাদামের আকৃতি ভিন্ন। কিছু ছোট আকারের চিনা বাদাম আর কিছু ব্রাজিল নাট একসাথে মিশিয়ে ঝাকালে দেখা যায় ব্রাজিল নাটগুলো উপরে উঠে আসে। এই ঘটনার মাধ্যমে ইফেক্টটি সর্বপ্রথম কারো নজরে আসে বলেই হয়তো ইফেক্টটির এই নামকরণ করা হয়েছে। ব্রাজিল নাট ইফেক্টের পেছনের বিজ্ঞান বেশ জটিল এবং বিভিন্ন পদার্থবিদ্যার বিভিন্ন নীতির উপর নির্ভরশীল। চিত্র ১: ব্রাজিল নাট। ◾প্রাককথন: আমরা পদার্থের তিনটি অবস্থার সাথে পরিচিত: কঠিন, তরল এবং গ্যাসীয় । আমরা জানি যে পাথর কঠিন, সমুদ্রের পানি তরল এবং আমরা যে বায়ু শ্বাস হিসেবে গ্রহণ করি তা হল গ্যাস। কিন্তু কিছু পদার্থের আচরণের ক্ষেত্রে শ্রেণীবিভাগ সবসময় সবকিছুকে ধারণ করতে পারে না। আপনি বা...